1ef41a04-0e40-44ac-8c99-5303a719e024.webp
নিউজ টাইম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ রাত ০৮:২৫

মহাকাশে এই প্রথমবারের মতো মানুষের চোখে সবুজ দেখাবে এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ছবি: সিএনএন
মহাকাশে এই প্রথমবারের মতো মানুষের চোখে সবুজ দেখাবে এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ছবি: সিএনএন

মহাকাশ যেন প্রতিনিয়ত তার বুক চিরে রহস্যের নতুন নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে। এই প্রথম মানুষের চোখে সবুজ রঙের আভা ছড়াবে এমন একটি বিরল নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

মৃত নক্ষত্রের অতি ঘন অবশিষ্টাংশ বা ‘হোয়াইট ডোয়ার্ফ’ (White Dwarf) বা শ্বেত বামন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই এই চাঞ্চল্যকর মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান মিলেছে। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই অভাবনীয় আবিষ্কারটি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।


সাধারণত মহাকাশের নক্ষত্রগুলোর রং নির্ধারিত হয় তাদের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে। এ কারণে আমরা এতদিন প্রধানত কমলা, সাদা কিংবা নীল রঙের নক্ষত্রই দেখে অভ্যস্ত।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের সূর্যের মতো কোনো নক্ষত্রের জীবনাবসান বা জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর যে অতি ঘন অবশিষ্টাংশ বা শ্বেত বামন তৈরি হয়, সেগুলোতে অবিশ্বাস্য রঙের বৈচিত্র্য দেখা দিতে পারে। আর তারই বাস্তব প্রমাণ মিলল এই নতুন গবেষণায়।


যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও এই গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক হল্যান্ডস জানান, সাধারণ নক্ষত্রের পাশাপাশি অধিকাংশ শ্বেত বামনের রং চেনা পরিসরের ভেতরেই থাকে। তবে কিছু অতি বিরল ক্ষেত্রে নক্ষত্রের বাইরের স্তরে অস্বাভাবিক ভৌত প্রতিক্রিয়া ঘটে, যা তাদের আলোক বর্ণালিতে (স্পেকট্রাম) বড় ধরনের বিচ্যুতি তৈরি করে।


গবেষকেরা জানিয়েছেন, নক্ষত্রটির বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য মৌলের রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণেই আলোর এই অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটেছে। মূলত কোনো গ্রহাণু যখন এই শ্বেত বামনের খুব কাছাকাছি চলে আসে, তখন প্রবল মহাকর্ষীয় টানে সেটি টুকরো টুকরো হয়ে ধূলিকণায় পরিণত হয়। পরবর্তীতে সেই ধূলিকণা নক্ষত্রের ওপর আছড়ে পড়ে এবং এর বাইরের স্তরের সঙ্গে মিশে যায়।


এই সবুজ আভা তৈরি করা নক্ষত্রটিতে বিজ্ঞানীরা মূলত তিনটি প্রধান মৌলের শক্তিশালী উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন—সেগুলো হলো ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম এবং লিথিয়াম। শুধু তাই নয়, কার্বন অণুর উচ্চ ঘনত্বের কারণে অন্য আরেকটি নক্ষত্রের রং হালকা গোলাপির মতো দেখানোর বিষয়টিও তাঁরা লক্ষ্য করেছেন।


এই গবেষণার জন্য পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষ দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত মোট ১৫১টি শ্বেত বামন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। যেহেতু শ্বেত বামন আকারে ছোট ও ম্লান হওয়ায় খালি চোখে দেখা যায় না, তাই গবেষকেরা বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে প্রিজমের মতো আলোর বর্ণালি বা তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Spectrum) বিশ্লেষণ করে এদের সুনির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করেছেন।


ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান ডিয়েগোর জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম বার্গাসার এই বিষয়ে জানান, শ্বেত বামনগুলো মূলত মহাবিশ্বের ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন গ্রহগুলোর বিভিন্ন উপাদান সযত্নে সংরক্ষণ করে রাখে। ফলে এগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে প্রাচীনকালে সৌরজগৎ বা গ্রহ কীভাবে গঠিত হয়েছিল, সেই রোমাঞ্চকর ইতিহাস খুঁজে বের করা সম্ভব।


বিজ্ঞানবিষয়ক মর্যাদাপূর্ণ সাময়িকী ‘আরএএস টেকনিকস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস’ (RAST)*-এ এই গবেষণা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে মহাকাশ পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে এমন সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান আরও বেশি পরিমাণে পাওয়া যাবে।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ১
  • ...
  • ১০৩

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...