1ef41a04-0e40-44ac-8c99-5303a719e024.webp
নিউজ টাইম
৩০ জানুয়ারী, ২০২৬ দুপুর ১১:৫০

একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন প্রতারণা ও নৃশংসতার চরম শাস্তি হিসেবে মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর লাউককাইংয়ের 'মিং' পরিবারের ১১ সদস্যের ফাঁসি কার্যকর করল চীন।

মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর লাউককাইংয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা কুখ্যাত ‘মিং’ পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। হাজার হাজার মানুষকে বন্দি করে অনলাইন প্রতারণা (স্ক্যাম) এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গত সেপ্টেম্বরে আদালতের রায়ের পর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই সাজা কার্যকর করা হয়।


২০০৯ সাল থেকে মিয়ানমারের শান রাজ্যের লাউককাইং শহরটি শাসন করে আসছিল মিং, বাউ, ওয়েই এবং লিউ—এই চারটি প্রভাবশালী পরিবার। বর্তমান সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের আশীর্বাদে তারা ক্ষমতায় আসে। এক সময় মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে তারা ক্যাসিনো এবং অনলাইন প্রতারণার এক বিশাল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। পরিবারের অনেক সদস্য জান্তা সমর্থিত দলের হয়ে নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন।


মিং পরিবারের পরিচালিত ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ ছিল মূলত একটি টর্চার সেল। সেখানে হাজার হাজার চীনা নাগরিককে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বন্দি করে রাখা হতো। তাদের দিয়ে ‘পিগ-বাচারিং’-এর মতো ভয়াবহ অনলাইন জালিয়াতি করানো হতো। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টার সময় বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিককে রক্ষীরা গুলি করে হত্যা করলে বেইজিং কঠোর অবস্থানে যায়।


মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এমএনডিএএ (MNDAA) লাউককাইং দখল করে নিলে এই চার পরিবারের প্রধানদের আটক করা হয়। পরে তাদের চীনের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মিং পরিবারের প্রধান মিং সুয়েচ্যাং ধরা পড়ার পর আত্মহত্যা করলেও পরিবারের বাকি সদস্যদের চীনে বিচার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এই পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য সাধারণ মানুষকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।


মিং পরিবারের ১১ জনের ফাঁসি কার্যকর হলেও অন্যান্য পরিবারের বিচার এখনো চলছে। বাউ পরিবারের পাঁচজন বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন এবং ওয়েই ও লিউ পরিবারের বিচারকাজ চলমান। চীন বর্তমানে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও এমন প্রতারণা চক্রের হোতাদের হস্তান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছে।


তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, লাউককাইংয়ের কেন্দ্রগুলো বন্ধ হলেও এই অনলাইন প্রতারণার ব্যবসা এখন মিয়ানমারের নতুন নতুন দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা দমানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।


সূত্র: বিবিসি।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ১
  • ...
  • ১০৩

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...