1ef41a04-0e40-44ac-8c99-5303a719e024.webp
নিউজ টাইম
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৮

গাছে ঝুলতে থাকা থোকা থোকা আঙুর বাগানে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে তরুণ উদ্যোক্তা মুন্না। ছবি: সংগৃহীত
গাছে ঝুলতে থাকা থোকা থোকা আঙুর বাগানে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে তরুণ উদ্যোক্তা মুন্না। ছবি: সংগৃহীত

১০ লাখ টাকা ঋণ কাটিয়ে নাটোরে রাশিয়ান 'বাইকুনুর' জাতের আঙুর চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মুন্না। পড়ুন বিস্তারিত।

এক সময় ব্যবসায় লোকসান গুনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ঋণে ডুবে গিয়েছিলেন মিজানুর রহমান মুন্না। সামনে তখন চরম অনিশ্চয়তা, পেছনে ব্যর্থতার গ্লানি। কিন্তু ভেঙে পড়েননি এই উদ্যমী তরুণ। চাকরির পেছনে না ছুটে ফিরে গেছেন মাটির কাছে, আর সেই মাটিই তাকে দেখাচ্ছে নতুন আশার আলো।


নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চরকাদহ গ্রামের তরুণ মুন্না নিজ উদ্যোগে দুই বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন বিদেশি জাতের সফল আঙুর বাগান। রাশিয়ান ‘বাইকুনুর’ জাতের ৪০০টি চারা দিয়ে শুরু করা বাগানে এখন লতায় লতায় থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো আঙুর।


আরও পড়ুন: সুন্দরবনের কেওড়া ফল: পুষ্টিগুণ, ঔষধি ক্ষমতা ও উপকূলীয় মানুষের জীবন


২০১৪ সালে এসএসসি এবং ২০১৮ সালে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা শেষ করেন মুন্না। পড়াশোনা শেষে চাকরির পেছনে না হেঁটে নামেন ব্যবসায়, কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানেই বড় ধরনের লোকসান গুনে ১০ লাখ টাকার ঋণে জড়িয়ে পড়েন।


ঋণের ভারে পিছু না হটে তিনি উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ৩ মাসের কৃষি ও খাদ্যসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নেন। পরে ইউটিউবে সফল উদ্যোক্তাদের গল্প দেখে এবং নওগাঁর মান্দায় এক আঙুর চাষির কাছে সরেজমিনে পরামর্শ নিয়ে শুরু করেন বিদেশি ‘বাইকুনুর’ জাতের আঙুর আবাদ।


আঙুর চাষে সফলতা ও আয়ের নতুন পথ

পরিবারের প্রাথমিক অনীহা সত্ত্বেও বাড়ির পেছনের ২ বিঘা জমিতে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে চারা রোপণ ও পরিচর্যা শুরু করেন মুন্না। অল্প সময়ের ব্যবধানেই এখন সারি সারি লতার নিচে সবুজ ও লালচে-বেগুনি রঙের আঙুরের থোকা ঝুলছে।


চারা ও পরামর্শ বিক্রি: প্রতি চারা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। পাশাপাশি অন্যান্য তরুণদের কারিগরি পরামর্শও দিচ্ছেন।

সম্ভাব্য আয়: চলতি মৌসুমে চারা ও ফল বিক্রি মিলিয়ে ৭ লাখ টাকার বেশি আয়ের আশা করছেন। বাজারে প্রতি কেজি আঙুর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।


মুন্নার এই সাফল্য দেখতে ও পরামর্শ নিতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। মুন্না বলেন, “চাকরি করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে কৃষিতেও সম্মানের সঙ্গে দাঁড়ানো যায়।”


গুরুদাসপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, মুন্নার এই উদ্যোগ বেকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে যুব উন্নয়ন ব্যাংক থেকে সহায়তা করা হবে। এ ছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম রাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁকে সার্বিক কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ...
  • ৯৬

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

logo

প্রকাশক :

কাউসার আহমেদ অপু
যোগাযোগ করুন

অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯

ই-মেইল : info@newstime.net

আমাদের অনুসরণ করুন
২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...