1ef41a04-0e40-44ac-8c99-5303a719e024.webp
নিউজ টাইম
৮ নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ০২:০৮

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

২০২০ থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৬ বছর ১০ মাসে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।

বাংলাদেশের সড়কগুলো যেন দিন দিন এক একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঝরছে তাজা প্রাণ। তবে এর চেয়েও বড় মর্মান্তিক সত্য হলো—সড়ক দুর্ঘটনায় এককভাবে নয়, বরং একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। এর ফলে অনেক পরিবার পৃথিবী থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।


বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্টে প্রকাশিত এক বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই এক লোমহর্ষক ও শিউরে ওঠার মতো চিত্র। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত—অর্থাৎ বিগত ৬ বছর ১০ মাসের গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।


৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোটরবাইক থেকে শুরু করে বাস ও অ্যাম্বুলেন্স—সব ধরনের মাধ্যমেই স্বজন হারানোর চিত্র ভয়াবহ।


মোটরবাইক দুর্ঘটনা: মোটরসাইকেলে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি (মোট ৩৮৬ জন) এবং পিতা-সন্তান একসঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি (মোট ৩১৮ জন)।


অটোরিকশা দুর্ঘটনা: অটোরিকশায় একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২১১টি, তিনজন ১১৮টি, চারজন ৯২টি, পাঁচজন ৫৩টি, ছয়জন ৩৮টি এবং সাতজন পর্যন্ত নিহত হওয়ার ১৩টি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে ৫২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৭২৮ জন।


মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার: মাইক্রোবাসে ১৮৬টি দুর্ঘটনায় ৭০৮ জন এবং প্রাইভেটকারে ১০৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন একই পরিবারের সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।


অ্যাম্বুলেন্স ও বাস: অসুস্থ রোগীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ৪৫টি ঘটনায় ১৬২ জন এবং বাস দুর্ঘটনায় ৩২টি ঘটনায় ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পিকআপ ভ্যান উল্টে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।


রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যালোচনায় পরিবারগুলোর একসঙ্গে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে কর্মস্থলে যাওয়া বা ভ্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া, মহাসড়কে নিষিদ্ধ অটোরিকশার চলাচল রোধ করতে না পারা এবং অধিকাংশ মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা।


এ ছাড়া চালকদের দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো, মোটরবাইক চালক ও আরোহীদের বিএসটিআই অনুমোদিত মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার বেপরোয়া মানসিকতাই সড়কগুলোকে প্রতিনিয়ত রক্তস্নাত করে তুলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সচেতন মহলের মতে, চালকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এই মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব নয়।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ১
  • ...
  • ১০৯

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...